‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে…’

না, আমি রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী নই। আর এখানে গান নিয়ে কথা বলতেও আসিনি। তবে গানের এই কথাগুলি আমার জীবনে বেশ সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। যেখানে বিশ্বকবি স্বয়ং একলা চলার উৎসাহ দিচ্ছেন, সেখানে আর কেন নিজেকে আটকে রাখব? তবে বাঁধন খুলে বের হয়ে আসাটা বোধ হয় গান গাওয়ার চেয়েও বেশি কঠিন ছিল। কিন্তু স্বপ্নকে সত্যি করতে চাইলে যে কোন কঠিন বাধাকে পেরোতেই হবে। এটাই বাস্তবতা। এটাই হয়ে আসছে। আর ভবিষ্যতেও এটাই হবে। 

অধ্যায় ১: বাঁধা

এখানে প্রথমেই বলে রাখি, এই একলা চলার ব্যাপারটি কিন্তু শুধু বাংলাদেশি মেয়েদের জন্যই নয়, বরং পৃথিবীর সব দেশের মেয়েদের জন্যই একই রকম প্রতিবন্ধকতাপূর্ণ। এমনকি একলা চলার জন্য কোন ছেলেকেও আজ পর্যন্ত নিরুৎসাহিত ছাড়া উৎসাহিত করা হয়নি। তাই “মেয়ে মানুষ”, “বাংলাদেশি একটা মেয়ে”, “আমরা ভদ্র পরিবারের সদস্য, আমাদের পরিবারের মেয়েরা এভাবে বেহায়াপনা করে না”, “বিয়ের পরে তো হাজব্যাণ্ড নিয়ে ঘুরতেই পারবা” ইত্যাদি অনেক কিছুই শুনতে হবে।

সেই সাথে এটাও শুনতে হবে যে এই পৃথিবীতে আমাদের পরিবারের তথা চেনাজানা গণ্ডীর বাইরে যারা আছে, তারা সকলেই বিপজ্জনক। আরও শুনতে হবে “মেয়েটা একেবারে অসামাজিক, না হলে একাও কেউ বেড়াতে যায়?”, “বন্ধু-বান্ধব ছাড়া কি এনজয় করা যায়?”। আর দেশের ভিতরের চেয়ে দেশের বাইরের পরিবেশকেই আমাদের পরিবার বেশি নিরাপদ মনে করে। আমি বলছি না তারা ভুল। কিন্তু তারা পুরোপুরি সঠিকও নয়। এখানেই একটা ভারসাম্য তৈরি প্রয়োজন। 

আমাকে এরকম অনেক কিছুই শুনতে হয়েছে। ছোটবেলা থেকে পরিবারের সাথেই বেড়িয়েছি। স্কুল-কলেজের ‘সকাল-বিকাল’ পিকনিকে যাওয়ার অনুমতিও প্রায় বিনা চাইতেই পেয়ে গিয়েছি। প্রথম বাধার সম্মুখীন হই যখন পাঁচ রাত আর চার দিনের ব্যাচ ট্রিপে ভার্সিটির বন্ধুদের সাথে ৫৫ জনের দলের সদস্য হিসেবে কক্সবাজার-সেন্ট মার্টিন যাওয়ার সময় হল। বেশ কঠিন বাধা পেরিয়ে সে যাত্রাটা ব্যবস্থা করে নিয়েছিলাম। তবে তখনও পরিবার ছাড়া একা ঘুরতে যাওয়ার অ্যাডভেঞ্চার বা মজা কোনটাই বুঝতে পারিনি। সে অভিজ্ঞতা পেতে আরও সাড়ে আট বছর সময় লেগেছিল। এই সময়ে পরিবারের সাথে আরও অনেক বেড়িয়েছি। কিন্তু মনের মধ্যে সব সময়ই ঘুরত ‘একা আসলে কেমন হত?’ এই প্রশ্নটা। 

অধ্যায় ২: কেন একা যাবেন?

আমি পরিবার বা আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধু-বান্ধব ছাড়া, তথা পরিচিত মানুষ ছাড়া বেড়াতে শুরু করি ২০১৭ সালের জুন মাসের শেষ দিকে। ঈদের ঠিক একদিন পরে। গন্তব্য ছিল: খাগড়াছড়ির সাজেক ভ্যালী। ঈদের ছুটিতে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বেড়ানোটা আর পোষাচ্ছিল না। সেই সাথে অফিসের ছুটিটাও পেয়ে যাই। যদিও আমার পরিবারের মানুষদের বারবার করে আমার সাথে ঐ ট্রিপে যাওয়ার জন্য বলি, কিন্তু বিভিন্ন অজুহাতে তারা এবারেও পিছিয়ে যাচ্ছিল। আর এটাই ছিল আমার একা বেড়ানোর একটা অন্যতম বড় কারণ। বাধাটা দূর করার অনুপ্রেরণা রবীন্দ্রনাথের গানের সেই দু’টি লাইন থেকেই পাই। 

বিজয়পুরের চীনামাটির পাহাড়ের সামনে একটি মেয়ে
বিজয়পুরের চীনামাটির পাহাড়ে লেখিকা

এই একটা ঝামেলার কারণেই বেশির ভাগ মানুষ একা ভ্রমণ শুরু করে। কখনো পরিবারের সদস্যদের সাথে সময় মিলে না, কখনো বন্ধু বা সহকর্মীদের সাথে সময় মেলানো যায় না। আবার বিভিন্ন মানুষের বিভিন্ন রকমের ভ্রমণ পছন্দ; যেমন কেউ পাহাড় চড়ে ঝর্ণা দেখতে পছন্দ করে, কেউবা জঙ্গলে ঘুরে বেড়াতে, কেউ আবার স্থানীয় মানুষ, সংস্কৃতি ও খাবার-দাবার চেখে দেখতে ভালবাসে, আবার কেউ কেউ এর সবই করে থাকে; অন্যদিকে কেউ আবার নামী-দামী হোটেল-রিসোর্টে থেকে অবকাশ-ভ্রমণ ভালবাসে। তাই দলবেঁধে ঘুরে-বেড়াতে বিস্তর পরিকল্পনা করতে হয়।

অধ্যায় ৩: শুরুর গল্প

একা বেড়ানোর আরও একটা সুবিধা আছে। দলবেঁধে ঘুরতে যাওয়ার আগে যেমন, তেমনি পরেও কিছু সমস্যার উৎপত্তি হয়। কেউ এটা খাবে, তো কেউ ওটা; কেউ বিশ্রাম চায়, আবার কেউ চায় পুরো সময়টা অ্যাডভেঞ্চার আর অভিজ্ঞতা দিয়ে ভরপুর করে তুলতে; কেউ কেউ সারা রাত লোকজ সঙ্গীতের আসর ভালবাসে, কেউ আবার কানে ইয়ার বাডস্ লাগিয়ে নিজের পছন্দের গান শুনতে চায়; কেউ ট্র্যাভেল প্ল্যান অর্থাৎ ‘আইটিনারি’ হুবহু মেনে চলতে চায়, আর অন্য কেউ যখন যা ইচ্ছা হবে সেই অনুযায়ী ট্র্যাভেলিং চালিয়ে যেতে পছন্দ করে। কিন্তু একা ঘুরতে গেলে এগুলো কোন সমস্যাই না। 

যাই হোক, সাজেক যাওয়ার জন্য একটা ট্যুর অপারেটর গ্রুপের সাথে আমি সহ মোট ৩৬ জন সদস্যের একটা দলে যোগ দেই। ঐ দলের কাউকেই আমি চিনতাম না। রাতে থাকার ব্যবস্থা যদিও একটা মেয়ের সাথে করা হয়েছিল, কিন্তু আমি ছিলাম সম্পূর্ণ একা। যাত্রা শুরু করার আগে আত্মীয়-স্বজনসহ বাড়ির সবাই বলাবলি করতে লাগল “ঈদের সময়ে কেউ একা বেড়াতে যায়?”, “এতগুলা মানুষের সাথে একা যাবি?” (‘এতগুলা’ মানুষের সাথে আমি ‘একা’ কীভাবে হলাম তা অবশ্য আমি বুঝি নাই) “জিনিসপত্র, টাকা-পয়সা সামলে রাখিস”, “মেয়েটা পুরা উচ্ছন্নে গেছে” ইত্যাদি, ইত্যাদি, ইত্যাদি। 

কিন্তু বাস ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করার সাথে সাথেই সত্যিকারের স্বাধীনতার প্রথম স্বাদ পেলাম। খাগড়াছড়ি পৌঁছে সকালের নাস্তার সময়েই অনেকের সাথে আলাপ হতে শুরু হল। আর ঐ ট্রিপের শেষে আমি দশজন খুব ভাল বন্ধু জুটিয়ে ফিরে আসি যাদের সাথে আজও একই রকম উষ্ণ সম্পর্ক রয়েছে। সেই সাথে অসংখ্য নতুন অভিজ্ঞতা আর স্মৃতি তো ছিলই যা কখনই ফিকে হওয়ার নয়। এরপর থেকেই মনের ভিতরের ট্র্যাভেলিং এর নেশাকে আর দমিয়ে রাখতে পারিনি।

অধ্যায় ৪: অতঃপর আমার আমি

কিন্তু সম্পূর্ণ একা ট্র্যাভেল করা শুরু করি আরও প্রায় ছয় মাস পরে। এর মধ্যে আরও অনেক গ্রুপের সাথে বিভিন্ন জায়গায় বেড়িয়েছি। বিভিন্ন জায়গা সম্পর্কে খোঁজ খবর নিয়ে একটু একটু করে প্রস্তুতি নিতে শুরু করি। ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রুপে যোগ দিয়ে জানতে পারি যে অনেকেই অনেক স্থানে নিজের মত করে ঘুরতে যায়। তাদের শেয়ার করা অভিজ্ঞতা থেকে নিজের মত করে নিজের জন্য আইটিনারি তৈরি করতে শুরু করি, যদিও কোন বাঁধাধরা ছক মেনে বেড়ানো আমার পছন্দ না। কিন্তু একটা মোটামুটি পরিকল্পনা তৈরি করে রাখি যেন গুরুত্বপূর্ণ স্থান বা খাবার বা অভিজ্ঞতা বাদ না পরে। 

এই সময় জুড়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আমার মনে গাঁথা হয়ে যায়:

  • সাধারণত সব ভ্রমণকারীই নিরাপদ- হোক সে ছেলে বা মেয়ে- এবং সবাই মোটামোটি হেল্পফুলই হয়। এমনকি ‘একা’ একটা মেয়ের ব্যাপারে কিছুটা অভিভাবকের ভূমিকাও পালন করে থাকে, তবে সেটা কোন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে না।
  • ট্র্যাভেলিং এ সব সময়ই শেয়ার করার মনোভাব বজায় রেখে চলতে হবে।
  • বিনয়ী মনোভাব এবং ভালো ব্যবহার অত্যন্ত জরুরী। 
  • স্থানীয় খাবারের বিষয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করাটা বুদ্ধিমানের লক্ষণ না।
  • পূর্বে জেনে নেওয়া কোন নতুন জায়গার অভ্যন্তরীণ ট্রান্সপোর্টেশন সিস্টেম, অনেক ক্ষেত্রেই বাস্তবে আপনার প্রয়োজনের সাথে নাও মিলতে পারে।  তাই স্থানীয় মানুষদের পরামর্শ নেওয়াটাই উত্তম।

এসব জ্ঞান আহরণের পরে এবারে মনে হল সঠিক সময় হয়ে এসেছে। কিন্তু তখনও সুযোগের অপেক্ষাতেই ছিলাম। আর এভাবেই সুযোগ এসেও গেল একদিন। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ১৪ তারিখে আমি সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ে চলে গেলাম একাই। পাহাড় বেয়ে উপরে উঠে মনোরম দৃশ্য উপভোগের আগ্রহ আমার খুব বেশি একটা নেই। আর পাহাড়ে একা ট্রেকিং করার জন্য আমাদের দেশের পরিবেশ এখনো যথার্থ নয়। একে তো আসলেই নিরাপত্তার অভাব রয়েছে, অন্যদিকে ট্রেকিং এর রুটে পর্যাপ্ত চিকিৎসার ব্যবস্থাও নেই। 

তাই পাহাড়ে ট্রেকিং এর জন্য দলবেঁধে যাওয়াই উচিৎ। যাই হোক আমি গিয়েছিলাম শিব চতুর্দশী উপলক্ষে পাহাড়ের পাদদেশে প্রতি বছর যে মেলা অনুষ্ঠিত হয় সেটা দেখার জন্য। তবে তীর্থযাত্রীদের সাথে পাহাড়ও চড়েছিলাম।

two people at chandranath pahar
চন্দ্রনাথ পাহাড়ে জনৈক তীর্থযাত্রীর সাথে লেখিকা

অধ্যায় ৫: মুগ্ধতা, মুগ্ধতা এবং মুগ্ধতা!

এই প্রথমবারে ভয় ছিল ঠিকই, কিন্তু এর মাধ্যমে যে অভিজ্ঞতা হয়েছিল তা প্রকাশ করার ভাষা আমার নেই। আর এটা শুধুমাত্র বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব। কিন্তু কিছু শিক্ষাও হয়েছিল। যেমন, আমি মুসলমান এবং অবিবাহিত এই দুইটি সত্য তথ্যের কারণে এই উৎসবে আমাকে কিছুটা আপত্তিকর অবস্থায় পড়তে হয়েছিল। তবে এর মাধ্যমে কিছু নতুন অভিজ্ঞতাও হয়। 

আগে থেকেই ভ্রমণ সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের বই পড়া, ভিডিও দেখার মাধ্যমে এটা শিখেছিলাম যে স্থানীয় অধিবাসীদের সাথে কথাবার্তা বলা হচ্ছে কোন স্থান সম্পর্কে জানার সবচেয়ে ভালো উপায়। এই উৎসবের সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছিলাম বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মানুষের সাথে কথা বলার মাধ্যমেই। সেই থেকে শুরু।

এরপর থেকে পরিবারের বাধা প্রায় নেই বললেই চলে, বরং সাবধান থাকার উপদেশই দেওয়া হচ্ছে। ট্র্যাভেলিং পরবর্তী আমার ছবি, ভিডিও এবং সর্বোপরি আমার চেহারায় ফুটে ওঠা সত্যিকারের খুশিটাকে দেখে পরিবারের সবাই আমার এই নেশাটাকে বেশ খানিকটা সমর্থনও করছে। এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে নতুন পোশাক কিনে দিয়েও অনেকে সাহায্য করেছে। 

ট্র্যাভেলিং-কে নিজের জীবনের একমাত্র নেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার পর থেকে সামাজিকতা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় অনেক কিছু থেকেই নিজেকে বিরত রাখছি। কারণ উপার্জনের পাশাপাশি সঞ্চয়ও ভ্রমণের অর্থায়নের জন্য একান্ত আবশ্যক। যদি আর্থিক স্বাধীনতা থাকে তাহলে ভ্রমণের পূর্বের প্রতিবন্ধকতা যেমন এড়িয়ে চলা সম্ভব, তেমনি ভ্রমণের সময়েও অনেক সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব। সুতরাং এই প্রস্তুতিটা সবচেয়ে বেশি জরুরি। 

অধ্যায় ৬: স্ট্র্যাটেজি এবং প্ল্যানিং

কীভাবে পরিবারের সাথে জেদ বা ঝগড়াঝাঁটি না করে বরং তাদেরকে নিজের ইচ্ছেটা বুঝিয়ে সোলো ট্র্যাভেল করতে বের হয়ে যাওয়া যায়, ট্রিপ শুরুর আগে কি ধরনের প্রতিবন্ধকতা আসতে পারে এবং কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে- এসব সম্পর্কে জানানোই ছিল এই লেখার মূল উদ্দেশ্য। আমাদের পরিবার-পরিজন আমাদের ভালই চায়, কিন্তু আমাদের ‘ভালো আর ভালোলাগা’- এই দুইটা বিষয় সব সময় এক হবে এমন নয়। 

সেটা বুঝানোর জন্য একসাথে বসে সোলো ফিমেল ট্র্যাভেলারদের অভিজ্ঞতা নিয়ে শেয়ারকৃত ভিডিও দেখা একটা ভাল উপায় হতে পারে। নিজের প্রস্তুতি সম্পর্কে পরিবারের সদস্যদের জানালে তারা অনেক ক্ষেত্রেই সহযোগী হবে, এমনকি তাদের সাহায্যও পাওয়া যেতে পারে। তবে সবার আগে নিজের মনকে প্রস্তুত করতে হবে। আমি নিজে যদি দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হই তাহলে সব বাধাই অতিক্রম করা সম্ভব। 

অচেনা পরিবেশ ও মানুষ সম্পর্কে ভয় থাকাটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু তাই বলে কি সারা জীবন নিজেকে ঘরের কোণে বন্দী করে রাখা যাবে? যখন প্রথমবার স্কুলে যাই তখন কি ক্লাসের অন্য কাউকে আগে থেকে চিনি আমরা? অথচ জীবনের সবচেয়ে ভাল সময়টা কাটে হঠাৎ করে পরিচিত হওয়া ঐ নতুন মানুষগুলোর সাথেই। তেমনি একা ট্র্যাভেল করার মাধ্যমে নতুন মানুষদের সাথে পরিচিত হওয়াই ট্র্যাভেলিং এর অন্যতম উদ্দেশ্য। 

কাপ্তাই-লেকে-কায়াকিং করছেন একজন মহিলা
কাপ্তাই-লেকে-কায়াকিং-শেষে

পরিচিত জনদের সাথে থাকলে নতুনদের, এমনকি স্থানীয়দের সাথে ঠিকভাবে কথা পর্যন্ত বলা হয়না, নতুন কোন খাবার চেখে দেখা হয়না। এভাবে কি ট্র্যাভেলিং এর আসলে টেস্ট পাওয়া যায়? আর বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা তো থাকবেই। কিন্তু সেটা কি ব্যক্তিগত আনন্দের চেয়ে বেশি? সুস্থ মস্তিষ্কের যে কোন মানুষই সমাজের সমালোচনা আর অজানাকে ভয় পাবে। কিন্তু অল্প কিছু মানুষই এই ভয়কে জয় করতে পারে।

তো, আপনি কোন দলে?